Skip to main content

Jokkho

সতর্কবার্তা: এই পোস্টটি শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি কাল্পনিক রহস্য ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। গল্পের সকল চরিত্র, স্থান ও ঘটনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।

পুরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা ও ভাঙা আশ্রমে আগমন

শহরের ইট-কাঠের খাঁচায় হাঁপিয়ে ওঠা এক তরুণ ছেলের শরীর ও মন দীর্ঘদিন ধরেই বেশ ভালো যাচ্ছিল না। তার মানসিক অবসাদ ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করার একমাত্র উপায় হিসেবে তার মা তাকে কিছুদিনের জন্য সোজা পাঠিয়ে দেন ওড়িশার সমুদ্র সৈকত শহর পুরীতে। মায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরীতে পৌঁছানোর পর তাকে থাকতে বলা হয় এক বিশেষ জায়গায়—সমুদ্রের কাছাকাছি এক প্রাচীন সাধক বা বাবাজির আশ্রমে। কিন্তু সেই আশ্রম সাধারণ কোনো পাকা বাড়ি বা মঠ ছিল না; সেটি ছিল এক অদ্ভুত পুরোনো একতলা বাংলো, যা কালের নিয়মে এবং সমুদ্রের ধেয়ে আসা বালির ঝাপটায় অর্ধেকের বেশি অংশ বালির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। সেই ভগ্নপ্রায় ও রহস্যময় বাংলোর চারপাশের থমথমে পরিবেশ প্রথম দেখাতেই যেকোনো মানুষের মনে শিরিষের কাঁটার মতো শিহরণ জাগিয়ে তোলে।

পরিচারকের সাথে বন্ধুত্ব ও গুপ্তধনের হাতছানি

পুরোনো সেই বাড়ির ভাঙা দেওয়াল, স্যাঁতসেঁতে বারান্দা আর দীর্ঘ করিডোরের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে ছিল নানা অজানা ইতিহাস। সেই আশ্রমে আসার পর ওই ছেলের সাথে পরিচয় হয় বাবাজির এক তরুণ পরিচারকের। বয়সে কাছাকাছি হওয়ায় দুজনের মধ্যে খুব দ্রুত দারুণ এক বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সারাদিন বাবাজির কাজের ফাঁকে দুজনে মিলে সেই পুরোনো বাড়ির আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। একদিন সেই পরিচারক ফিসফিস করে ছেলেটিকে এক মারাত্মক তথ্য জানায়—সে বলে, “জানিস তো, এই পুরনো সাহেব বাংলোর ভেতরে কোথাও না কোথাও প্রকাণ্ড এক গুপ্তধন লুকিয়ে আছে!” এই একটিমাত্র বাক্যই তাদের শান্ত মনের ভেতর রোমাঞ্চের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। দুজনে মিলে প্রতিজ্ঞা করে যে তারা যেকোনো মূল্যে এই গুপ্তধনের রহস্য ভেদ করবেই।

রহস্যময় স্বপ্ন ও সাহেবের প্রেতাত্মার অভিশাপ

গুপ্তধনের খোঁজ শুরু করার পর থেকেই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করে। একদিন ক্লান্ত হয়ে ঘুমানোর পর ছেলেটি এক ভীতিকর ও রহস্যময় স্বপ্ন দেখে। সে স্বপ্নে দেখতে পায়, বহু বছর আগে এই বাংলোর মালিক এক ব্রিটিশ সাহেব ছিল, আর সেই সাহেবেরই অদৃশ্য প্রেতাত্মা বা ভূত আজও এই বাড়ির চত্বরে ঘুরে বেড়ায়। সেই সাহেবের অভিশপ্ত ও লুকানো গুপ্তধনই নাকি এই বাড়ির মেঝের নিচে কিংবা বালির স্তূপের গভীরে পুঁতে রাখা আছে। স্বপ্নের সেই ঘোর আর বাস্তবের অশরীরী অনুভূতি ছেলেটির মেরুদণ্ডে ঠান্ডা স্রোত বয়ে দেয়।

গুপ্তধনের সন্ধান ও রোমাঞ্চকর সমাপ্তি

স্বপ্নের সেই ইশারা আর পরিচারকের জেদকে সম্বল করে তারা দুজনে আবার উঠেপড়ে লাগে সেই গুপ্তধনের খোঁজে। বাংলোর যেসব জায়গায় বালি জমে উঁচু হয়ে আছে, তারা সাবধানে সেই বালি সরাতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ খোঁড়াখুঁজির পর অবশেষে তাদের কদম সফল হয়! বালির গভীর থেকে উদ্ধার হয় প্রাচীন আমলের এক সিন্দুক বা গুপ্তধনের সন্ধান, যা তাদের কল্পনার থেকেও অনেক বেশি রোমাঞ্চকর ছিল। পুরীর সমুদ্রের গর্জন, পুরোনো সাহেব বাংলোর ইতিহাস আর দুই তরুণের এই গুপ্তধন খোঁজার অভিযান বাংলা সাহিত্যের এক নিখুঁত রহস্যময় অধ্যায় হয়ে ওঠে।

Cover

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!