Skip to main content

Jokkho

কেশপুর গ্রামের একদমমুখেই ছিল ‘ঘোষ মিষ্টির দোকান’। দোকানের মালিক হারাধন বাবু, বয়স তাঁর ষাটের কাছাকাছি। মুখভর্তি পাকা দাড়ি আর চোখে মোটা চশমা। তবে এই দোকানের আসল আকর্ষণ ছিল হারাধন বাবুর হাতের গরম গরম সিঙ্গাড়া। বিকালের দিকে ল্যাম্পপোস্টের নিচে যখন ধোঁয়া ওঠা সিঙ্গাড়ার কড়াই বসত, তখন পুরো এলাকায় ম ম করত তার সুগন্ধ। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসত শুধু এই সিঙ্গাড়ার স্বাদ নিতে।

কিন্তু কয়েকদিন ধরে যেন সব কিছু বদলে যেতে শুরু করল। দোকানে আর আগের মতো সেই মিষ্টি গন্ধ নেই, বরং কেমন যেন একটা আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়। গ্রামের পুরোনো গ্রাহকয়েকজন খেতক্ষামাত্রই মুখ একটা অদ্ভূতভাবে বানিয়ে ফেলল—”হারাধন দা, আজকের সিঙ্গাড়ার স্বাদটা কেমন যেন একটু ভিন্ন লাগছে! সেই আগের মিষ্টি ভাব আর মশলার জাদুটা কোথায় গেল?”

হারাধন বাবু মাথা নিচু করে থাকেন। নতুন একটা লোকজনকে দোকানে সিঙ্গাড়া বানানোর কারিগর হিসেবে রাখা হয়েছে। লোকটা দেখতে কেমন যেন ভয়ঙ্কর—গোঁয়ারের মতো শরীর, বড় বড় চোখ, আর চোখের নিচে কালচে দাগ। গ্রামের অনেকেই বলাবলি করছিল, “এই নতুন লোকটা কিন্তু একদম সুবিধার নয়। কারিগর নয়, যেন কোনো গunda-বদমাশ!”

এমনই এক সন্ধ্যায় ঘটল আসল ঘটনা। দোকানের সামনে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের নিচে জ্বলছে একটা হালকা পেঁকে-হলুদ আলো। রাস্তার ওপারে ল্যাম্পপোস্টের ঠিক নিচে দাঁড়িয়ে ছিল সেই নতুন কারিগর। তার হাতে একটা বড় কালচে থলথলে ব্যাগ। হারাধন বাবু দোকানের কাজ শেষ করে নতুন কারিগরকে ডাকতে গেলেন—”এই যে, শোনো! ওখানে কী করছ?”

কারিগরটা আস্তে আস্তে ঘুরে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টি ছিল একদম অশরীরী, রক্তলোভনের মতো লাল! সে কিছু বলল না, শুধু একটা বিবৎস হাসি দিয়ে হারাধন বাবুর দিকে পা বাড়াল। হারাধন বাবু কেমন যেন শরীরটা ভারী অনুভব করলেন। মশলার আর মদের গন্ধে তার চোখ ধুলিয়ে আসল, আর মুহূর্তের মধ্যে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।

যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন সে দেখলেন নিজেকে একটা অদ্ভুত, পুরোনো ক্লাবঘরের মাঝে আটকে রেখেছেন। চারদিকে অন্ধকার, আর সেখানে জড়ো হয়ে গেছে দোকানের অন্য সব কর্মচারী আর গ্রামের কিছু গুন্ডা লোক। ওরা সবাই মিলে হারাধন বাবুকে ধরে সেখানে নিয়ে এসেছে।

ক্লাবঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেই গুন্ডাসদৃশ নতুন কারিগর। তার হাতে ছিল একটা শিশি—যাতে ছিল তীব্র বিষ!

তাহলে আসল কাণ্ডটা কী?

শেষে জানতে পাওয়া গেল এক ভয়ঙ্কর সত্য। আগের সেই শান্তিপ্রিয়, দক্ষ কারিগরকে এই নতুন গুন্ডা লোকটা গোপনে খুন করেছে! তারপর তার লাশটাকে ক্লাবঘরের পেছনের গাছতলায় লুকিয়ে রেখে, নিজে নতুন কারিগর সেজে দোকানে ঢুকেছে। তার আসল উদ্দেশ্য ছিল—গ্রামের লোকেদের এই সিঙ্গাড়ার সাথে বিষ মিশিয়ে একেবারে শেষ করে দেওয়া, যাতে তারা এই জমিদারের পুরোনো জমিগুলো দখল করতে পারে!

হারাধন বাবু সব জানতে পেরে চিত্কার করে উঠলেন, কিন্তু তখন আর সময় ছিল না। গ্রামের এলাকার সব লোক যারা সেই সন্ধ্যায় সিঙ্গাড়া খেয়েছিল, তারাই আস্তে আস্তে ক্লাবের দিকে ছুটে এল এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী হতে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!