JIBONTO MA KALI
চন্দ্রহাটি গ্রামের দরিদ্র কৃষক শ্যামাপদ একদিন নদীর ঘাটে স্নান করতে গিয়ে লাল কাপড়ে ঢাকা একটি ভারী কলসি খুঁজে পায়। কৌতূহলবশত বাড়ি নিয়ে এসে কলসিটি কাত করতেই তার ভেতর থেকে শ্মশানের ছাই এবং একটি উজ্জ্বল, মূল্যবান সোনার হার বেরিয়ে আসে। শ্যামাপদ ও তার অসুস্থ স্ত্রী বুঝতে পারে এটি কোনো মৃতদেহের অস্থিকলসি। হারটির কোনো লোভ না করে শ্যামাপদ তা খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে এবং গ্রামে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু সেই রাত থেকেই তাদের সংসারে নেমে আসে এক অশুভ শক্তির অভিশাপ। গভীর রাতে শ্যামাপদর স্ত্রী অদ্ভুত আচরণ শুরু করে এবং এক অতৃপ্ত প্রেতাত্মা ভর করে তার হার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। পরদিন শ্যামাপদ দেখে তার একমাত্র সম্বল পাকা ধানের জমিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। স্ত্রীর ওপর ভূতের আক্রমণ তীব্র হতে থাকায় তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। সর্বস্ব হারিয়ে চরম হতাশায় শ্যামাপদ নদীর পাড়ে বসে কাঁদছিল।
এমন সময় সেখানে ‘শ্যামা’ নামের এক ছয়-সাত বছরের ফুটফুটে মিষ্টি গ্রাম্য বালিকা আবির্ভূত হয়। সে শ্যামাপদর সব দুঃখের কথা বলে দেয় এবং বিছানার নিচের অস্থিকলসিটি অবিলম্বে নদীতে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেয়। কথা শেষ হতেই বালিকাটি অদৃশ্য হয়ে যায়। তার পায়ের ছাপ অনুসরণ করে শ্যামাপদ গ্রামের কালী মন্দিরের প্রতিমার সামনে পৌঁছায় এবং বুঝতে পারে স্বয়ং মা কালীই বালিকার বেশে দেখা দিয়েছিলেন। শ্যামাপদ দ্রুত বাড়ি ফিরে কলসিটি নদীতে ভাসিয়ে দেয়। মুহূর্তেই তার স্ত্রী প্রেতাত্মার হাত থেকে মুক্তি পায়, জমির ধান অলৌকিকভাবে অক্ষত হয়ে ওঠে এবং পরের বছর তাঁদের ঘরে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় শ্যামা।