Skip to main contentAadhar Rater Hotel – Bengali Horror Story
সিউড়ির হাইওয়েতে ঘটে চলা রহস্যজনক ধারাবাহিক মৃত্যুর খবর কভার করতে কলকাতা থেকে এসেছিলেন সাংবাদিক গৌরব ও স্থানীয় ক্যামেরাম্যান অমিত। গ্রামবাসীরা এসব মৃত্যুর পেছনে ভৌতিক শক্তির হাত থাকার দাবি করলেও যুক্তিবাদী গৌরব তা বিশ্বাস করেননি। কাজ শেষে রাতে একা গাড়ি চালিয়ে কলকাতায় ফেরার পথে খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হাইওয়ের পাশে আলো ঝলমলে এক ধাবায় থামেন।
সেখানে এক বৃদ্ধকে ডাল-ভাতের অর্ডার দিয়ে খাটিয়ায় বসতেই হোটেলের সমস্ত আলো আচমকা নিভে যায়। ভেতরে ঢুকতেই পচা লাশের তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে একটি লাল আলো জ্বলা ছোট্ট ঘরের সামনে গিয়ে গৌরব শিউরে ওঠেন—সেখানে এক হিংস্র, পৈশাচিক প্রাণী মানুষের কাঁচা মাংস ছিঁড়ে খাচ্ছিল, যার চারপাশে ছড়িয়ে ছিল হাড়গোড় ও মাথার খুলি। প্রাণীটি তাকে দেখেই “বাবা কোথায় তুমি” বলে উঠলে আতঙ্কিত গৌরব ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বাইরে এসে তিনি দেখেন ধাবার চাকচিক্য সম্পূর্ণ উধাও, আর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেই বৃদ্ধের বিকৃত প্রেতাত্মা, যার খসে পড়া মাংস ও লাল চোখ স্পষ্ট জানান দিচ্ছিল সে জীবিত নয়।
গৌরব পড়ে গিয়ে যখন দিশেহারা, তখন তার ফেলে যাওয়া ফাইল ফেরত দিতে সেখানে ছুটে আসে অমিত। অমিত তাকে সতর্ক করে জানায় যে বহু বছর আগে অবৈধ কার্যকলাপের জন্য এই হোটেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি এক অভিশপ্ত জায়গা। কিন্তু কথা শেষ করার আগেই সেই নরখাদক পিশাচ অমিতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে নির্মমভাবে ছিঁড়ে ফেলে। কোনোমতে গাড়িতে উঠে গতি বাড়িয়ে পিশাচটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রাণে বেঁচে ফেরেন গৌরব। সিউড়ির হাইওয়ের অতিপ্রাকৃতিক সত্য ও অমিতের মর্মান্তিক মৃত্যু তার মনে চিরকালের গভীর ট্রমা রেখে যায়।
error: Content is protected !!