Skip to main content

Jokkho

POCHA MANGSHER GHRAN – Bengali Horror Story

এই গল্প বা ভিডিওটি সম্পূর্ণরূপে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য-

শান্তিডাঙ্গা গ্রামে নটবরের মাংসের দোকানে প্রবীর ও ক্ষুদিরাম আড্ডা দিচ্ছিল। নটবর জানায়, দোকান থেকে রাতে তার দুটো পাঁঠা রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে গেছে। ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন গ্রামের প্রবীণ চাটুয্যে মশাই। তিনি নির্লিপ্তভাবে দোকানের অবশিষ্ট সমস্ত কাঁচা মাংস কিনে নিয়ে চলে যান। কিন্তু যাওয়ার সময় তার শরীর থেকে এক অদ্ভুত পচা দুর্গন্ধ ভেসে আসে। নটবর জানায়, আর্থিক সংকটে পড়ে চাটুয্যে মশাই সব চাকর-বাকর ছাড়িয়ে দিয়ে বিশাল বাড়িতে একা থাকছেন এবং রোজ সন্ধ্যায় কাঁচা মাংস নিয়ে যান।

পরদিন সন্ধ্যায় নটবরের দোকানে চাটুয্যে মশাইয়ের একমাত্র ছেলে শশাঙ্ক বহু বছর পর শহর থেকে ফিরে আসে। সে জানায়, বাবার কাছে সম্পত্তির বিষয়ে কথা বলতে এসেছে। নটবর ও গ্রামবাসীদের কাছে বাবার একা থাকা, কাঁচা মাংস খাওয়া ও কান্নার আওয়াজ পাওয়ার কথা শুনে শশাঙ্ক তাদের সঙ্গে নিয়ে নিজের পুরনো জমিদার বাড়িতে যায়।

বাড়িতে ঢুকে অন্ধকার সিঁড়ির নিচে তারা চাটুয্যে মশাইয়ের গলিত ও শুকনো মৃতদেহ দেখতে পায়, যার চারপাশে পড়ে ছিল হাড়গোড়। স্পষ্ট হয়ে যায় যে নটবরের চুরি যাওয়া পাঁঠা ও রোজ নিয়ে যাওয়া কাঁচা মাংস এই অতৃপ্ত আত্মাই খাচ্ছিল। তখনই চাটুয্যে মশাইয়ের ভয়ংকর প্রেতাত্মা ভেসে ওঠে এবং শশাঙ্ককে তীব্র ভর্ৎসনা করে জানায়—অসুস্থ হয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে চিকিৎসার অভাবে তিলে তিলে তার মৃত্যু হয়েছে, অথচ ছেলে কখনো তার খোঁজ নেয়নি।

অনুতাপে ভেঙে পড়ে শশাঙ্ক কেঁদে ফেলে বাবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চায়। নটবরের অনুরোধ ও ছেলের আন্তরিক অনুশোচনায় শান্ত হয়ে চাটুয্যে মশাই তাকে ক্ষমা করেন এবং যথাযথ দাহকার্য ও শ্রাদ্ধশান্তি করে তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শশাঙ্ক শ্রদ্ধাভরে বাবার শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে এবং পিতৃস্মৃতি হিসেবে ভিটেমাটি অক্ষত রেখে দেয়।

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!