Nodir Chorer Kureghor — Bengali Animated Horror Story.
সতর্কবার্তা: এই গল্পটি শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি কাল্পনিক ভূত ও ভৌতিক রোমাঞ্চকর কাহিনী। কাল্পনিক গল্পের খাতিরে সামান্য হরর উপাদান রয়েছে।
এক আঁধার ঢাকা সন্ধ্যায় একটা বাস এসে দাঁড়ালো বাস ডিপোতে। এই বাস ডিপোটা নদীর চড়ায়। নদী পেরোতে গেলে নৌকো ছাড়া কোনো উপায় নেই, বাস থেকে নেমে দাঁড়ালেন একটা লোক। পেশায় তিনি একজন রিপোর্টার। কলকাতার এক নামী সংবাদমাধ্যমে চাকরি করেন এই ভদ্রলোক।
এই লোকটি কোথায় যাবেন সেটাই হচ্ছে মূল রহস্য! নদীর ধারে রাস্তা ধরে তিনি এগিয়ে চলেছেন নদীর ঘাটের দিকে, চারিদিকে অন্ধকারের নিঝুম, ঝিঁঝিঁর ডাক।
নদীর চড়ায় এসে লোকটি দেখলো একটা নৌকা দাঁড়িয়ে আছে, মাঝি নৌকার ওপর বসে একমনে বিড়ির টান দিচ্ছে। মাঝিকে কয়েকবার ডেকেও লোকটি কোনো সাড়া পেল না। নদীর চড়ায় আরেকটি মাচার ওপর একটা বৃদ্ধ বসে আছে, রিপোর্টার লোকটি অনেক বলে-কয়ে সেই বুড়োর মাধ্যমে মাঝিকে রাজি করালো।
বুড়ো একথায় জানতে পারলো রিপোর্টার লোকটা নদীর একটা কুঁড়েঘরে যেতে চায়, সেই কুঁড়েঘরটি কোনো এক তান্ত্রিকের। একথা শুনে বুড়োর হাড় হিম হয়ে যায়! সেই কুঁড়েঘরটিতে অনেক কিছু ঘটে, শোনা যায় বিদেহী আত্মারা ভিড় জমায় সেই তান্ত্রিকের কাছে! তান্ত্রিকের হাতের পুতুল আত্মার দল, তান্ত্রিক খুব একটা সুবিধার মানুষ নয়।
বুড়োটা সেই লোকটিকে নদীর চরের কুঁড়েঘরে যেতে বারণ করে, কিন্তু লোকটি কোনো কথাই শোনে না। মাঝি অনেকক্ষণ পর লোকটিকে নিয়ে পৌঁছে দেয় নদীর চরের সেই কুঁড়েঘরে, মাঝি এটাও বলে দেয় যে এক ঘণ্টা বাদে সে ফেরত আসবে; যদি লোকটি তখন নদীর চড়ায় না থাকে তখন সে ফেরত চলে যাবে।
লোকটি বুঝতে পারে না কী এমন আছে এই কুঁড়েঘরে, সবাই এই তান্ত্রিককে কেন এত ভয় পায়! সত্যিই কি এই তান্ত্রিক ভূত নামাতে পারে? নানান প্রশ্ন নিয়ে সে এগিয়ে যায় কুঁড়েঘরটির দিকে।
কুঁড়েঘরে তান্ত্রিককে খুঁজেও পায় লোকটি। বৃদ্ধ তান্ত্রিক, কিন্তু খুবই রুক্ষ চেহারা! লোকটি তান্ত্রিককে নানান প্রশ্ন করে, তান্ত্রিক সব উত্তর দিলেও লোকটির গোপন অভিসন্ধি তার সামনে বলে ফেলে! লোকটি কিছুতেই বুঝতে পারে না এই তান্ত্রিক একথা জানলো কী করে! তান্ত্রিক আরও বলে, লোকটি তার কাছে এসেছে কারণ তান্ত্রিকের প্রেত দিয়ে লোকটি কোনো খারাপ কাজ করাতে চায়!!
এরপরই শুরু হয় এমন এক হাড় হিম করা ঘটনা, যার কথা এই রিপোর্টার সারা জীবনে হয়তো ভুলতেও পারবে না! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই তান্ত্রিকের কাছে এসে লোকটি কি ভুল করেছিল? কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সব বুঝতে পারে সে।
“নদীর চরের কুঁড়েঘর”—এ গল্পটা শুধু লোকটির গল্প নয়, আমাদের সকলের মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই লুকোনো লোভের গল্প।