LANGOL TOLAR KASH FULER BON – Bengali Durga Puja Horror Animation Story
লাঙল তলায় পুজো হয় প্রত্যেক বছর, তবে বিগত তিন বছরে পুজোর রীতিনীতি বদলেছে, এখন পুজো হয় জমিদার বাড়িতে!! জমিদারি নেই, তবে বাড়ি খানা আছে, আর আছে দম্ভ ও অহংকার!!
এক সন্ধ্যায় চা দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল গ্রামের কয়েকজন, এখানে এদের আড্ডা বসছে বেশ কিছুদিন হলো!! এমন সময় পাড়ার এক ছোকরা এসে খবর দিল জমিদারের ছেলেকে ভূতে ধরেছে!! চা দোকানের সবাই এই কথায় দৌড়ে হাজির হয় জমিদার বাড়িতে, সেখানে এক হুলুস্থুল দৃশ্য!! জমিদারের ছেলে কাঠের বাতার ওপর বসে একভাবে গজরাচ্ছে ওদের দিকে তাকিয়ে, ওঝা ডাকতে হবে এবার।
ওঝা ডাকা হলো, ওঝা এলো!! ওঝা এসে দেখল বাড়ির দরজা বন্ধ, অনেক ধাক্কাধাক্কিতেও দরজা খোলার কোন নাম নেই, সেখানে দাঁড়ানো একজন এগিয়ে গিয়ে দরজায় ঘা দিতেই এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটে!!
ছেলেটা দরজা খুলে বেরিয়ে এসে গলা টিপে ধরে লোকটার, ওঝা তৎপর হয়ে হাতের জল ছিটিয়ে দেয় তার ওপর, ছেলেটা ছিটকে গিয়ে পড়ল একদিকে।
সেদিন ওঝার দৌলতে ছেলেটার ঘাড় থেকে ভূত নামানো হলেও গ্রামের মধ্যে একটা আতঙ্কের বাতাস ছড়িয়ে গেছিল, সবাই সন্ধ্যা নামতেই ঘরের মধ্যে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছিল!!
এরপর জমিদার বাড়িতে শুরু হলো খুব বিশ্রী সমস্যা, পুজোর প্যান্ডেলে কাজ করতে থাকা একজন হঠাৎ প্যান্ডেলের বাঁশ থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত পায় খুব বিশ্রীভাবে, কে করলো এই কাজ, কি হচ্ছে এই লাঙল তলায়!
আবার চা এর আড্ডা বসিয়েছিল গ্রামের কয়েকজন, সেদিন আর আজ ও রোজই এই আড্ডায় ওদের সাথে হরিদেব বুড়ো থাকে, আজও একটা ছেলে দৌড়ে এসে খবর দিল তাদের।
ওরা আবার এসে হাজির হলো জমিদার বাড়িতে, আজ কিন্তু এখানে অন্য এক দৃশ্য, জমিদার বাড়ির বাইরে প্যান্ডেলে কাজ করতে থাকা লোকটা দাঁড়িয়ে আছে, ভয়ানক লাল চোখ তার, তাকে দেখলেও বুকটা ধক করে ওঠে।
ওঝা এলো, এরপরই এই লাঙল তলার এক এমন রহস্য ভেদ হয় তাদের চোখের সামনে, যে আতঙ্ক আর ভয় ছড়িয়ে পড়ে লাঙল তলায়। কি জানতে পেরেছিল সেখানে দাঁড়ানো মানুষগুলো, আর তার কি সম্পর্ক এই জমিদার বাড়ির সাথে!!
কে এই ভূত!! – যে বারবার হানা দেয় জমিদার বাড়িতে!!
“লাঙল তলার কাশ ফুলের বন” – সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।