ফেরি ঘাটের বৃষ্টির রাত: এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার গল্প
বৃষ্টির রাত মানেই চারপাশের প্রকৃতিতে এক অন্যরকম রহস্যময় অনুভূতি। বৃষ্টির শব্দ, ভেজা হাওয়া আর অন্ধকার পরিবেশ অনেক সময় গা ছমছমে অনুভূতির সৃষ্টি করে। এমনই এক মুষলধারে বৃষ্টির রাতের লোমহর্ষক ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের গল্প—”ফেরি ঘাটের বৃষ্টির রাত”। যেখানে একটি সাধারণ মজার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত চরম আতঙ্ক এবং এক অলৌকিক অভিশাপে রূপ নেয়।
টিউশনের ফাঁদে মজার পরিকল্পনা
গ্রামের এক পুরোনো বাড়িতে এক বয়স্ক শিক্ষক খুব কড়াকড়িভাবে টিউশন করাতেন। সেখানে এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে পড়তে আসত। স্যার খুব রাগী স্বভাবের ছিলেন বলে ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে মনে মনে বেশ ভয় পেত। এই ছাত্র-ছাত্রীদেরই একজন ছিল বেটো। ক্লাসের সবাই যখন স্যারের ভয়ে তটস্থ থাকত, তখন বেটো একটু বেশি চালাকি করার চেষ্টা করত। একদিন টিউশন চলাকালীন দুষ্টু বুদ্ধির মাথায় চাপল—আজ স্যারের সাথে একটা কড়া মজা করা যাক। বেটো ঠিক করল, স্যার ছুটির পর একা যখন বাড়ি ফিরবেন, তখন ফাঁকা ফেরি ঘাটের রাস্তায় তাকে দারুণভাবে ভয় দেখাবে।
ফেরি ঘাটে কালীর রূপ ও প্রতীক্ষা
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামল, আর সেই সাথেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। চারপাশ একদম অন্ধকার হয়ে গেল, রাস্তায় কোনো লোকজনের দেখা নেই। টিউশন শেষ হওয়ার পর সবাই বাড়ি চলে গেলেও বেটো আগে থেকেই পরিকল্পনা মতো মুখে কালির প্রলেপ মেখে, খ্যাপাটে রূপ ধরে ফেরি ঘাটের অন্ধকার রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রইল। সে ভাবল, স্যার যখন ঘাট পার হওয়ার জন্য একা আসবেন, তখন সে হঠাৎ সামনে এসে চিৎকার করে উঠবে আর স্যার ভয়ে কেঁপে উঠবেন। বৃষ্টির ঝাপটায় চারপাশ থমথমে হয়ে ছিল, আর দূর থেকে স্যারের আসার পদশব্দ শোনা গেল।
ভয়ঙ্কর দৃশ্য ও অতিলৌকিক কান্ড
স্যার যখন ঠিক ফেরি ঘাটের কাছাকাছি এলেন, তখন বেটো ভূত সেজে তার সামনে লাফিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে যা ঘটে গেল, তা তার কল্পনারও বাইরে ছিল। অন্ধকারের মধ্যে স্যার হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। এরপর শিক্ষক এমন এক ভয়ংকর কাণ্ড ঘটালেন যা দেখে বেটোর রক্ত হিম হয়ে গেল—স্যার নিজের হাত দিয়ে নিজের মাথাটা শরীর থেকে সिला করে হেঁচকা টানে হাতে তুলে নিলেন! কাটা মুণ্ডু থেকে গলগল করে রক্ত পড়তে লাগল। আর সেই কাটা মাথা নিয়েই স্যার বিকট হাসতে হাসতে সরাসরি বেটোর দিকে এগিয়ে এলেন এবং তাকে শূন্যে তুলে সোজা গাছের ডালে গিয়ে উঠলেন।
পালিয়ে যাওয়া ও চাঞ্চল্যকর সত্য
এই অবাস্তব ও পৈশাচিক কান্ড দেখে বেটোর সাথে থাকা বা দূর থেকে লুকিয়ে দেখা অন্য দুজন বন্ধু ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হলো। তারা কোনোমতে প্রাণ নিয়ে সেখান থেকে ভোঁ দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেল এবং ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সোজা বেটোর বাবাকে ডেকে এনে সব ঘটনা খুলে বলল।
গ্রামের লোকজন যখন টর্চলাইট আর লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত ফেরি ঘাটে ছুটে এল, তখন তারা দেখল অন্য এক মর্মান্তিক দৃশ্য। সেখানে কোনো ভুতুড়ে কান্ড বা মাথা ছেঁড়ার ঘটনা নেই; বরং বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাত হয়ে পুড়ে মারা গেছেন সেই বয়স্ক শিক্ষক। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল—যে শিক্ষক কিছুক্ষণ আগে বজ্রপাতে মারা গেলেন, তার এমন ভয়ংকর রূপ সেদিন রাতে কেন দেখা গিয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও গ্রামবাসীর অজানা।