SHEORA GACHER BHUT
বিয়ের পর প্রথমবার শ্বশুরবাড়িতে আসে হরিপদ। গ্রামের মুদি দোকানী ঘনা কাকা এবং স্ত্রী লক্ষ্মী—উভয়েই তাকে সতর্ক করে যে রাস্তার ধারের পুরনো শেওড়া গাছটিতে অশুভ প্রেতাত্মার বাস, তাই সন্ধ্যার আগেই যেন সে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু হরিপদ ভূত-প্রেত বিশ্বাস করত না। পরদিন এক বন্ধুর বাড়ি গিয়ে আড্ডা দিতে দিতে তার ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায়। ঘনা কাকার অনুরোধ সত্ত্বেও আলো না নিয়ে সে একাই অন্ধকার পথে হেঁটে শ্বশুরবাড়ি ফেরে।
বাড়ি ফিরে হরিপদ অদ্ভুত নিস্তব্ধ আচরণ করে এবং রাতের খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে রান্নাঘর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনে লক্ষ্মীর ঘুম ভাঙে। সে গিয়ে দেখে হরিপদ ঘরে নেই। বাবা-মাকে ডেকে লক্ষ্মী রান্নাঘরের দিকে যেতেই দেখতে পায় এক ভয়াবহ দৃশ্য—হরিপদ মাটিতে বসে কাঁচা মাংস খাচ্ছে এবং বাড়ির সব হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলার পর আরো খাবার চাইছে। তার হিংস্র রূপ ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই বুঝতে পারে যে শেওড়া গাছের ভূত তাকে ভর করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হরিপদর শ্বশুর তড়িঘড়ি গ্রামের ওঝা নারায়ণকে ডেকে আনেন। নারায়ণ ওঝা এসে মন্ত্রপূত বস্তু ছুড়ে এবং বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ করে ভূতটিকে পরাস্ত করেন। অবশেষে ভূতটি হরিপদর শরীর ছেড়ে ছাই হয়ে মিলিয়ে যায়। নারায়ণ ওঝার সহায়তায় হরিপদ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পরে সুরক্ষাকবচ ধারণ করে লক্ষ্মীকে নিয়ে নিরাপদে নিজের গ্রামে ফিরে যায়।
One Response