Skip to main content

Jokkho

সতর্কবার্তা: এই অডিও স্টোরিটি অত্যন্ত ডার্ক, ভৌতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার একটি কাল্পনিক কাহিনী। এই গল্পের বিষয়বস্তু এবং সাউন্ড ইফেক্ট বেশ ভীতিকর, তাই দুর্বল হৃদয়ের অধিকারীদের এটি একা শোনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ও হররপ্রেমী শ্রোতাদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

অবদমিত প্রেম ও তান্ত্রিকের অন্ধকার আস্তানা

ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে তোলে, কিন্তু সেই ভালোবাসা যখন আচ্ছন্নতায় রূপ নেয়, তখন তা নরকের দরজা খুলে দিতে পারে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভম্বল—এমনই এক অদ্ভুত ও কুৎসিত মানসিকতার মানুষ, যে গ্রামের মেয়ে মালতীকে পাগলের মতো ভালোবাসে। মালতীকে সে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চায়, তার সান্নিধ্যের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু নিজের মনের কথা মালতীর সামনে গিয়ে সরাসরি প্রকাশ করার সাহস বা আত্মবিশ্বাস তার কোনোদিনই ছিল না। ভম্বলের এই হীনম্মন্যতা ও অসুস্থ মানসিকতা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন সে সাহস সঞ্চয় করার জন্য এবং যেকোনো মূল্যে মালতীকে পাওয়ার তীব্র বাসনায় এক কুখ্যাত ও রহস্যময় তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়।

শবসাধনার ভয়ংকর ও অন্ধকার পথ

তান্ত্রিকের আস্তানায় গিয়ে ভম্বল তার সমস্ত আকুতির কথা খুলে বলে। তান্ত্রিক একটু হাসে এবং তাকে এমন এক অবাস্তব ও জঘন্য শর্ত দেয় যা শুনলে যে কারো রক্ত জমে যাবে। তান্ত্রিক বলে, “তুই যদি মালতীকে চিরদিনের জন্য তোর কবজায় পেতে চাস, তবে তোকে মহাশ্মশানে গিয়ে একটি মৃতদেহের সাথে তান্ত্রিক মতে ‘শবসাধনা’ করতে হবে।” ভালোবাসার নেশায় অন্ধ ভম্বল পাপ-পুণ্যের সমস্ত সীমানা পেরিয়ে সেই বিভীষিকাময় শবসাধনা করতে রাজি হয়ে যায়। অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে শ্মশানের চিতাভস্ম আর পচা গন্ধে ভরা সেই নরককুণ্ডে সে এক মৃতদেহের ওপর বসে মন্ত্র পাঠ শুরু করে। মৃতদেহের সাথে সেই诡異 আচার-অনুষ্ঠান তার অবচেতন মনকে পুরোপুরি গ্রাস করে নেয়।

প্রেমের মিথ্যা সুবাস ও মালতীর আকস্মিক মৃত্যু

শবসাধনা সম্পন্ন করার কিছুদিনের মধ্যেই অদ্ভুত এক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যে মালতী কোনোদিন ভম্বলের দিকে ফিরেও তাকাত না, সে নিজেই যেন কেমন অদ্ভুতভাবে ভম্বলের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে। তাদের মধ্যে এক অস্বাভাবিক ও রহস্যময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভম্বল আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে, সে ভাবে তার সাধনা সফল হয়েছে। কিন্তু এই সুখের স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম। একদিন হঠাৎ করেই এক আকস্মিক ও রহস্যময় পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মালতীর! যে মেয়েকে পাওয়ার জন্য সে এত কিছু করল, সেই মালতী চিরকালের মতো তার কাছ থেকে হারিয়ে গেল। ভম্বলের জীবনের সেই মুহূর্তটি নেমে আসে চরম অন্ধকার।

মৃতদেহের পুনরুত্থান এবং ভম্বলের ওপর প্রেতাত্মার হন্ট

কিন্তু আসল বিভীষিকা শুরু হয় মালতীর মৃত্যুর পর থেকেই! ভম্বল বুঝতে পারে, সে যে শবসাধনা করেছিল, তার প্রভাবেই মালতীর আত্মা বা মৃতদেহ শান্ত হয়নি। যে মালতী মারা গেছে, সে সাধারণ মৃত নয়—শবসাধনার অভিশাপের ফলে সেই মৃতদেহ বা অশরীরী শক্তি আবার ফিরে এসেছে। অন্ধকার রাতে ভম্বলের ঘরের জানালা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যায়, খাটের পাশে পায়ের শব্দ পাওয়া যায় এবং তার নিজের ঘরেই তাকে পৈশাচিক কায়দায় হন্ট করা শুরু করে সেই প্রেতাত্মা। মালতীর সেই চেনা মুখটি আর ভালোবাসার নয়, বরং এক ভয়ংকর প্রতিশোধের রূপ নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ভম্বলকে তিলে তিলে শেষ করতে থাকে। ভালোবাসার নামে শুরু হওয়া এই অন্ধকার যাত্রার শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা এই অডিও স্টোরিটি শুনলে আপনার মেরুদণ্ডে শিহরণ জাগাবে।

Cover

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!